গরু ব্রাহমা জাতের গরু
--------------------------------
উৎপত্তিঃ-
-------------
১. ইংরেজী শব্দ ( Brahman ) এর বাংলা ভাষায় সংক্ষিপ্ত আকারে ব্রাহমা নামে পরিচিত ।
২. এ জাতের গরুর আদি আবাস স্থল আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশ । মূলতঃ ভারতীয় ৩ ধরণের গরুর উপজাত থেকে ব্রাহমা জাত তৈরি হয়েছে । এ উপজাত গুলাে হলাে গুজরাট , নেলাের এবং গীর ।
৩. ব্রাহমা জাতের গরু ৪০.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও স্বাভাবিক আচরণও খাদ্য গ্রহন করে থাকে , তেমন কোন অস্বাভাবিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় না । উক্ত তাপমাত্রায়ও ব্রাহমা জাতের গরুর প্রজনন ক্ষমতা অক্ষুন্ন থাকে ।
৪. শীতপ্রধান আবহাওয়ায় ব্রাহমা জাতের গরুর গায়ের শক্ত ও লম্বা লােম যুক্ত কম্বলের মত মােটা চামড়া অতিরিক্ত শীত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে ।
দৈহিক আকারঃ
------------
১. মাংসল জাতের গবাদি পশুর মধ্যে ব্রাহমা জাতের গবাদি পশুর শরীরের আকার মাঝারী ধরনের হয়ে থাকে ।
২. পা তুলনামূলক ভাবে লম্বাকৃতির হয় ।
৩. জন্মকালীন বাচ্চার ওজন ২৮-৩৫ কেজি।এক বছর বয়সে বাছুরের ওজন ৩৫০-৪০০ কেজি ।
৪. পূর্ন বয়স্ক গাভীর ওজন ৪৫০-৬৫০ কেজি । ৫. পূর্ন বয়স্ক ব্রাহমা জাতের ষাঁড়ের ওজন ৮০০-১০০০ কেজি ।
মাথার গঠন : -
-------------------
মাথা সাধারণত ছােট ও লম্বা আকৃতির হয় । শিং- নেই বললেই চলে অথবা খুবই ছােট আকৃতির হতে পারে ।
কুঁজঃ-
---------
ব্রাহমা জাতের ষাঁড়ের কুঁজ অনেক বড় আকৃতির হয় এবং গাভীর কুঁজ একটু ছােট হয় ।
চামড়াঃ
-----------
১. ব্রাহমা জাতের গরুর চামড়া সাধারণত নরম । ও ঢিলা হয় ।
২. গলার নীচে দীর্ঘ ও লম্বাকৃতির তুলতুলে গল কম্বল বিদ্যমান ।
৩. এ জাতের গরুর গায়ে ছােট ও মােটা লােমযুক্ত চকচকে চামড়া থাকে ।
৪. এ সকল বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত চামড়া ও লােমের জন্য ব্রাহমা বেশ গরম সহ্য করতে পারে ।
গায়ের রং
---------------
১. ব্রাহমা জাতের বাছুর জন্মের সময় হালকা ধূসর থেকে লাল রংয়ের হয় । ২. অনেক সময় কালাে রঙয়ের হয়ে থাকে ।
৩. পূর্নবয়স্ক ষাঁড় সাদা ও কালাে রঙয়ের হয় এবং এদের ঘাড় , কুঁজ ও পায়ের নীচের দিকের রং বেশ গাঢ় দেখা যায় ।
ব্রাহমা জাতের মাংস উৎপাদন দক্ষতাঃ
-----------------------------------------------------
১ ) ব্রাহমা জাতের গরুর সেলাইভারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত অতিরিক্ত লালা পরিপাক ক্রিয়া তরান্বিত করে এবং খাদ্য উপাদান সমূহ শােষণের পর রক্ত স্রোতের মাধ্যমে খাদ্য উপাদানকে মাংসে রূপান্তর করতে পারে ।
২ ) সাধারন ব্রাহমা জাতের গরু কম পানি পান করে । ফলে মল মূত্রের মাধ্যমে এ জাতের গবাদি পশুর শরীর থেকে কম পরিমাণ নাইট্রোজেন নিসৃত হয় । ফলশ্রুতি তে রক্তের মধ্যে উচ্চ মাত্রায় নাইট্রোজেন বিদ্যমান থাকে ।
৩ ) ব্রাহমা জাতের গরুর পাকস্থলীর আকার ছােট এবং উচ্চ মাত্রায় রুমেন মাইক্রোফ্লোরা বিদ্যমান থাকে । ফলে নিম্নমানের খাদ্যকে পরিবর্তিত করে ভাল মানের আমিষে পরিনিত করে শারীরিক বৃদ্ধি অক্ষুন্ন রাখতে পারে ।
রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতাঃ
--------------------------------
১. ব্রাহমা জাতের গবাদি পশু অন্যান্য জাতের গবাদি পশু থেকে বেশী রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা সম্পন্ন ।
২. এ জাতের গবাদি পশুর চামড়া চকচকে ও মােটা বিধায় উকন , আটালী ও মাইট সহ বহিঃ পরজীবির বংশ বৃদ্ধির জন্য অনুকুল নয়।
৩. সিবেসিয়াস নামক একপ্রকার গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক পদার্থ পরজীবি বিতারন ও দূরীকরণের জন্য বিতারক ( Repellent ) হিসেবে কাজ করে ।
মাংস উৎপাদন ক্ষমতাঃ
---------------------------------
ব্রাহমা জাতের গরু ছােট এবং উচ্চ মাত্রায় রুমেন মাইক্রোফ্লোরা বিদ্যমান থাকে । ফলে নিম্নমানের খাদ্যকে পরিবর্তিত করে ভাল মানের আমিষে পরিনিত করে শারীরিক বৃদ্ধি অক্ষুন্ন রাখতে পারে ।
রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতাঃ
---------------------------------
১. ব্রাহমা জাতের গবাদি পশু অন্যান্য জাতের গবাদি পশু থেকে বেশী রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা সম্পন্ন ।
২. এ জাতের গবাদি পশুর চামড়া চকচকে ও মােটা বিধায় উকন , আটালী ও মাইট সহ বহিঃ পরজীবির বংশ বৃদ্ধির জন্য অনুকুল নয় ।
৩. সিবেসিয়াস নামক একপ্রকার গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক পদার্থ পরজীবি বিতারন ও দূরীকরণের জন্য বিতারক ( Repellent ) হিসেবে কাজ করে ।
মাংস উৎপাদন ক্ষমতাঃ
---------------------------------
১. ব্রাহমা জাতের গরুর রুমেন ছােট হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই তাদের শরীর অধিক মাংসল হয়।
২. বিক্রয় যােগ্য মাংসের পরিমান ( নাড়ি - ভূড়ি ও অতিরিক্ত চর্বি ব্যাতিত ) তুলনামূলক বেশী হয় ।
৩. এ জাতের গরুর শরীরের বিভিন্ন অংশে চর্বির সমতা বজায় থাকে ।
৪. লক্ষণীয় বিষয় হলাে ব্রাহমা গরুর মাংস পেশীর অভ্যন্তরে চর্বির পরিমান ( Intramuscular fat ) কম থাকে । ফলশ্রুতিতে চর্বিজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভবনা কম থাকে ।


0 Comments