Cow (গরু) গরু প্রজনন ব্যবস্থাপনা I Cow breeding management I

 গরু প্রজনন ব্যবস্থাপনা

----------------------------


প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে একটি পূর্ণ বয়স্ক গাভী গর্ভধারণের জন্য গরম হয় বা ডাকে আসে । গাভী বা বকনার ডাকে আসার বা গরম লক্ষণ :


১. প্রতিটি গাভী স্বাভাবিক নিয়মে ১৮ থেকে ২৪ দিন বিরতিতে ঋতুচক্রে ফিরে আসে ।

২. সাধারণত বেশিরভাগ গাভী রাতে ডাকে আসতে দেখা যায় , ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডাকে আসার লক্ষণ বােঝা বেশ দুরুহ হয়ে পড়ে ।

৩. গাভীর ডাকে থাকা অবস্থা প্রায় ২ থেকে ১৮ ঘন্টা স্থায়ী হয় । এ সময়ে প্রথম ৮ থেকে ১০ ঘন্টা গাভী অস্থির থাকে , তার যৌনদ্বার দিয়ে আঠাযুক্ত বিজল পড়ে স্বচ্ছ সুতাের ন্যায় এবং লাফিয়ে উঠতে চেষ্টা করে  অন্য গাভীর উপর

৪. চূড়ান্ত ডাকে আসার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলাে চূড়ান্ত ডাকে আসা গাভীর উপর খামারের অন্য গাভী লাফিয়ে উঠলে সে নীরব থাকে । সাধারণত ডাকের লক্ষণ শুরু হওয়ার ১২ থেকে ১৮ ঘন্টা পর চূড়ান্ত ডাক আসে ।

৫. অপুষ্টি , আবহাওয়া , জলবায়ু , জাতের প্রভাব এবং বিশেষ করে প্রসবের পর ২/৩ ঋতুচক্রের সময় অনেক গাভীর ডাকে আসার লক্ষণ খুবই মৃদুভাবে প্রকাশ পায় । এসব ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে কমপক্ষে ২ ঘন্টা পর পর কাছ থেকে নজর রাখতে হয় গাভীর ডাকের লক্ষণগুলি

৬. লেজের গােড়া বা তার আশপাশের জায়গায় শুকনা আঁঠালাে পদার্থ লেগে আছে কিনা তা
দেখতে হবে ।

৭. এছাড়া আগের মাসের ডাকে আসার সঠিক দিনক্ষণ মনে রেখে সে অনুযায়ী বর্তমান ১৮ দিন মিলিয়ে অথবা কোনাে ষাঁড়ের সাথে রেখে এ ধরনের মৃদু ডাকে আসা গাভী সহজে সনাক্ত করা যায় । প্রজননের সঠিক সময় : কোনাে গাভী রাতে গরম হয়েছে বােঝা গেলে তাকে পরদিন সকালে একবার এবং আরও নিশ্চিত হবার জন্য ঐদিন বিকেলের মধ্যে আরেকবার প্রজনন করাতে হবে । একইভাবে যে গাভী সকালে ডাক এসেছে বােঝা যাবে তাকে ঐদিন বিকেলে ও পরদিন সকালে আরেকবার প্রজনন করাতে হবে । এ নিয়ম মেনে চললে গাভীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে । গাভী বা বকনার দেরীতে ডাকে আসার বা গরম হওয়ার কারণ : অনেক খামারের বকনা অনেক দেরিতে বা কখনােই ডাকে আসে না এবং প্রসবের পর অনেক গাভীর ডাক দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে ।

এ সমস্যার অন্যতম কারণগুলি হলাে :


১. পুষ্টিহীনতা ও গাভীর ওলানের বাটে মুখ দিয়ে বাছুরের দীর্ঘক্ষণ ধরে চুষে ঘন ঘন দুধ খাওয়া ।

২. দুগ্ধবতী গাভীর প্রসব পরবর্তীতে জননাঙ্গের ব্যাধি , কৃমি , দৈনিক দুধ উৎপাদনের হার ইত্যাদি ।

৩. বাছুরের দুধ ছাড়ানাের সময় দীর্ঘ হলেও গাভীর প্রসবের পর পুনর্বার বাচ্চা ধারণক্ষমতা ফিরে পেতে দেরি হয় ( ৯০ থেকে ১২০ দিন বা এর চেয়ে বেশি দেরি হয় ) । গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন সাধারণত ষাঁড়ের বীজ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কয়েকটি পদ্ধতির মাধ্যমে গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করাকে কৃত্রিম প্রজনন বলে । কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য উন্নত ষাঁড়ের শুক্রাণু ব্যবহার ও সুস্থ গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করতে পারলে বছরে বাচ্চা উৎপাদন দু'লক্ষেরও বেশি পাওয়া সম্ভব ।

১. গাভী ডাকে আসার ১২ থেকে ১৮ ঘন্টার মধ্যে গাভীকে কৃত্রিম প্রজনন করাতে হবে ।

২. একটি ষাঁড়ের বীজ থেকে প্রতি বছর ৬০ থেকে ৮০ টি গাভীর প্রজনন করানাে সম্ভব ।

৩. কিন্তু কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ গাভী প্রজনন করানাে যায় ।

৪. স্বাভাবিকভাবে একটি ষাঁড়ের সর্বমােট ৭০০ থেকে ৯০০ টি বাছুর প্রসবে ভূমিকা রাখতে পারে ।

৫. কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে অনেকাংশে সংক্রামক ব্যাধি রােধ করা যায় এবং গাভী ষাঁড়ের দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হয় না ।

৬. আমাদের দেশে ষাঁড়ের বীজ সংগ্রহ , সংরক্ষণ , পরিবহন বা সংস্থাপনে অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় গাভীর উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায় ।

৭. বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে ষাঁড়ের অভাব থাকায় কৃত্রিম প্রজনন জরুরি হয়ে পড়েছে ।

৮. কিন্তু কৃত্রিম প্রজননে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পদ্ধতিগত ত্রুটি - বিচ্যুতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অসাবধানতা ও অভিজ্ঞতার কারণে নানা সমস্যার সম্মুখিন হতে হয় ।

৯. রােগাক্রান্ত ষাঁড়ের বীজ গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করা হলে পরবর্তীতে দেখা যায় নানাবিধ সমস্যা । যার প্রভাব পরবর্তী বংশবিস্তারের উপর বর্তায় । এ ছাড়া অনেক গাভী বার বার গরম হয়ে থাকে ।

১০. রাসায়নিক দ্রব্য , ধূলিকণা , মাত্রারিক্ত তাপমাত্রার সংস্পর্শে খুব সহজেই ষাঁড়ের বীজ তাপমাত্রার সংস্পর্শে খুব সহজেই ষাঁড়ের বীজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে । আবার যে সমস্ত জিনিস পত্রের সংস্পর্শে বীজ আসে তাতে রাসায়নিক পদার্থ থাকলেও বীজ নষ্ট হতে পারে ।

১১. অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বীজ তরল হলে কিংবা প্রজনন অঙ্গের বাইরে স্থাপন করা হলেও গাভী গর্ভধারণ করতে পারে না ।

১২. ডিম্বাণু নির্গমনের আগে অথবা নির্গমনের পরে বীজ স্থাপন করলে গাভীর উর্বরতা হ্রাস পায় ।
১৩. তাই প্রথমবার বীজ স্থাপনের পর অন্তত ৬ ঘন্টা পর দ্বিতীয়বার বীজ স্থাপন করলে সুফল পাওয়া যায় বেশি ।

১৪. বীজ স্থাপনের সময় প্রজনন অঙ্গ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে গাভীর নানাবিধ সমস্যা হতে পারে । যেমন ব্রুসেলেসিস , ভিব্রিওসিস , ট্রাইকোমনােসিসসহ বিভিন্ন বংশগত রােগের সন্মুখিন হতে হয় । এ জন্য কোন সমস্যা দেখা দিলে প্রাণিচিকিৎকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ।

১৫. গাভী গর্ভবতী কিনা , নিয়মিত গরম হয় কিনা তা নির্ণয় করা , উন্নত ও উর্বর ষাঁড় নির্বাচন করা , গাভীর গর্ভধারনের ক্ষমতা নির্ণয় করা , গর্ভধারনের হার বৃদ্ধি করা , গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং ভেটেরিনারিয়ানের সাহায্যে গাভীর নিয়মিত পরিচর্যা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তার দিয়ে করতে হবে 

Post a Comment

0 Comments